সবচেয়ে বেশি অভিবাসী এসেছে পশ্চিম বলকান পথ দিয়ে৷ ছবি : ARCHIVE/ANSA/UFFICIO STAMPA OXFAM ITALIA
সবচেয়ে বেশি অভিবাসী এসেছে পশ্চিম বলকান পথ দিয়ে৷ ছবি : ARCHIVE/ANSA/UFFICIO STAMPA OXFAM ITALIA

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেড় লাখের বেশি অভিবাসী অনিয়মিত উপায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে প্রবেশ করেছেন৷ এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে এই সংখ্যা ৮৬ শতাংশ বেশি৷ শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে৷

জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার অভিবাসী অনিয়মিত উপায়ে ইউরোপে পৌঁছেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের প্রায় দ্বিগুণ৷ রাশিয়ার হামলার পর প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়া ৭৭ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের এই পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়নি৷ 

বলকান রুট: ‘সবচেয়ে সক্রিয়’

ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসে ৩৪ হাজার ৫৭০ অভিবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে প্রবেশ করেন, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৬৩ শতাংশ বেশি৷ এদের প্রতি ১০ জনের চারজন বা ১৪ হাজার ৮৬৬ জন পশ্চিম বলকান হয়ে এসেছেন৷ ফ্রন্টেক্স বলছে অনিয়মিত অভিবাসনে এই পথটি এখন ‘সবচেয়ে সক্রিয়’ অবস্থায় আছে৷ তাদের হিসাবে গত বছরের জুলাইর চেয়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে বলকান পথ ব্যবহার করে অভিবাসীদের আগমন তিনগুণ বেড়েছে৷ 

সব মিলিয়ে চলতি বছর পশ্চিম বলকান দিয়ে মোট ৭০ হাজার ৭৭০ জন পাড়ি জমিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে চারগুণেরও বেশি৷ এই পথে আগতদের বড় অংশ সিরীয়, আফগান ও তুর্কি৷ 

স্থলপথে বেলারুশের সঙ্গে ইউরোপের সীমান্ত দিয়ে অনেক অভিবাসীর আগমন ঘটে৷ পূর্ব সীমান্ত নামে পরিচিত এই পথে চলতি বছর প্রায় তিন হাজার জন এসেছেন৷ এই পথে অভিবাসীদের আগমন আগের বছরের চেয়ে ৩২ শতাংশ কমেছে৷ 

পড়ুন: অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে বসনিয়া

মধ্য ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী স্রোত

সমুদ্রপথে অভিবাসনে এখনও মধ্য ভূমধ্যসাগর দিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী পাড়ি জমিয়েছেন৷ জানুয়ারি থেকে জুলাইতে ৪২ হাজার ৫০০ অভিবাসী এই বিপজ্জনক পথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এসেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি৷ শুধু জুলাইতে মধ্য ভূমধ্যসাগর হয়ে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৮০০ জন৷ এই পথে আসাদের মধ্যে শীর্ষে আছেন মিশরীয় ও টিউনিশীয়রা৷ মূলত লিবিয়া, টিউনিশিয়ার উপকূল থেকে এই অভিবাসীরা নৌকায় করে ইটালিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন৷

অন্যদিকে মরক্কো থেকে পশিম ভূমধ্যসাগর হয়ে পারপারের ঘটনা ঘটেছে ছয় হাজার ৪৩৪ টি৷ ভূমধ্যসাগরে শুধু এই পথেই অভিবাসীদের পারাপার আগের বছরের চেয়ে কমেছে৷ 

বছরের প্রথম সাত মাসে পূর্ব ভূমধ্যসাগর হয়ে এসেছেন ২২ হাজার ৬০১ জন, যা আগের বছরের এই সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি৷ এই অভিবাসীদের ১১ হাজার ৩০০ জন বা অর্ধেকের গন্তব্য ছিল সাইপ্রাস৷ দ্বীপটিতে এই সাত মাসে অভিবাসী পাড়ি দেয়ার হার দ্বিগুণ বেড়েছে৷ সাইপ্রাসে আসা অভিবাসীদের মধ্যে বেশি আছেন সিরিয়া, নাইজেরিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর নাগরিক৷ 

পড়ুন: এক মাসে ২২০০ বাংলাদেশির ইউরোপে আশ্রয় আবেদন

এফএস/কেএম

 

অন্যান্য প্রতিবেদন