১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দুটি ভাগে বিভক্ত: উত্তরের অংশ (টিআরএনসি) যেটি তুরস্কের অধীনে রয়েছে। দক্ষিণ অংশ বা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ। ছবি: ফ্লিকার
১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দুটি ভাগে বিভক্ত: উত্তরের অংশ (টিআরএনসি) যেটি তুরস্কের অধীনে রয়েছে। দক্ষিণ অংশ বা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ। ছবি: ফ্লিকার

দুই বাংলাদেশি অভিবাসীকে উত্তর সাইপ্রাসের একটি আদালতে হাজির করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে ৩২২ জন ব্যক্তিকে অনিয়মিতভাবে শিক্ষার্থী ভিসায় ইউরোপে প্রবেশের সহায়তা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২২ আগস্ট, সোমবার, উত্তর সাইপ্রাসে ৩২২ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে ভুয়া ছাত্র ভিসায় আনতে সহায়তার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল

শিক্ষার্থী ভিসায় আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনপ্রতি ছয় লাখ টাকা নিয়ে তাদেরকে নির্মাণ খাতে কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। 

পড়ুন>>সাইপ্রাসে চলতি বছর আসা আশ্রয়প্রার্থী ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে

শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে পড়ালেখার জন্য আসলেও সংশ্লিষ্টরা উত্তর সাইপ্রাসে আসার পর তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করেনি।  

উত্তর সাইপ্রাস পুলিশ আদালতকে জানায়, ছাত্র হিসাবে নিবন্ধিত হওয়ার কথা থাকলেও এই ৩২২ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে যোগ দেয়নি। ৩২২ ব্যক্তির মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে সাইপ্রাসের সামরিক অঞ্চলে বেআইনি অনুপ্রবেশের মতো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন>>সাইপ্রাসের শরণার্থী শিবিরে বাংলাদেশিদের ঠাঁই যেভাবে 

উত্তর সাইপ্রাসের প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অফিস (পিআইও) পরিচালিত দপ্তর কিব্রিস পোস্টাসির মতে, “দুই প্রধান অভিযুক্ত ভুয়া ছাত্র ভিসা ছাড়াও সাইপ্রাসের ভেনিসীয় দেয়ালের একটি দুর্গের কাছে নিকোসিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি অনিয়মিত পয়েন্ট দিয়ে অভিবাসীদের দক্ষিণ সাইপ্রাস তথা রিপাবলিক অব সাইপ্রাসে প্রবেশ করিয়ে দিতে জনপ্রতি ১৫০ ইউরো বা ১৫ হাজার টাকা দাবি করত বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।” 

২০২২ সালের শুরু থেকে এই দুই সন্দেহভাজন ইউরোপে প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩২২ জনকে উত্তর সাইপ্রাসে নিয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন>>সাইপ্রাসে নিরাপদ বোধ করেন বাংলাদেশি নারী 

১৯৭৪ সালে দুই ভাগে বিভক্ত হয় সাইপ্রাস৷ বর্তমানে উত্তরাংশ তুর্কি ভাষাভাষী অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে৷ নিজেদের স্বাধীন দাবি করে আসা টার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাসকে স্বীকৃতি দিয়েছে শুধু তুরস্ক৷ অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রিপাবলিক অব সাইপ্রাসে বাস করেন গ্রিক ভাষাভাষী সাত লাখ নাগরিক৷ এদের বাইরে আছেন বৈধভাবে বসবাস করা এক লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী৷ 

পড়ুন>> ছয়দিন ধরে সাইপ্রাসে শরণার্থী ক্যাম্পের গেটে তিন বাংলাদেশি

সাইপ্রট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ মানবাপাচারকারীদের মাধ্যমে শরণার্থীরা দ্বীপের তুর্কি অধ্যুষিত উত্তর অংশে আসছে৷ সেখান থেকে তারা সীমান্ত পেরিয়ে রিপাবলিক অব সাইপ্রাসে ঢুকে পড়ছে৷


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন