অভিবাসী বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় বুলগেরিয়ার দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ছবি: পিকচার এলায়েন্স।
অভিবাসী বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় বুলগেরিয়ার দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ছবি: পিকচার এলায়েন্স।

বৃহস্পতিবার অনিয়মিত অভিবাসীদের বহনকারী একটি গাড়ির ধাক্কায় দুই বুলগেরীয় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২৫ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত বুলগেরীয় শহর বুরগাসে ভোর ৫টায় অভিবাসীদের বহনকারী একটি বাস পুলিশের গাড়িকে ধাক্কা দিলে ৩১ এবং ৪৩ বছর বয়সি দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। 

পুলিশের গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার আগে বাসটি সীমান্ত দুটি চৌকিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বরে জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা স্ট্যানিমির স্ট্যানেভ৷ 

স্ট্যানিমির স্ট্যানেভের মতে, “ধাক্কা দেয়ার ঘটনার আগে গাড়িটি দুটি সীমান্ত পুলিশ চৌকিতে থামার আদেশ অমান্য করে তীব্র গতিতে চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে পুলিশের একটি টহল দল এটিকে ধাওয়া করে পথ অবরোধ করলে গাড়িটি শহরের একটি আবাসিক এলাকায় বাসস্টপে এবং পুলিশের গাড়িতে জোড়ে ধাক্কা মারে।”

পড়ুন>> ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের হোটেলে নিষিদ্ধ করছে বুলগেরিয়া

শুক্রবার দুপুরে নিহত এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

গ্রেফতার পাঁচ সন্দেহভাজন

অভিবাসীদের নিবন্ধিত গাড়িটি তুরস্কে নিবন্ধিত বলে জানা গেছে৷ গাড়িটিতে নারী ও শিশুসহ সিরীয় বংশোদ্ভূত ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অবশ্য এই দুর্ঘটনায় তাদের কেউ আহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

পালিয়ে যাওয়া চালকের বিষয়ে জেলা অ্যাটর্নি জর্জি চিনেভ বলেন, ‘‘অত্যন্ত ‘সচেতন’ এবং ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এই কাজটি করা হয়েছে।’’ 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই ঘটনায় একটি বিচারিক তদন্ত খোলা হয়েছে এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পড়ুন>> 'কুকুর লেলিয়ে, নির্যাতন করে পুশব্যাক করে বুলগেরিয়ার পুলিশ'

মন্ত্রনালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন সিরীয় এবং দুজন বুলগেরীয়কে নাগরিক মানবপাচারকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।”

সীমান্তে শক্তিবৃদ্ধি

বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ইভান ডেমার্ডজিয়েভ সীমান্তে অভিবাসীদের চাপ এবং মানবপাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে সীমান্তে কড়া ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বুলগেরিয়া ৭০ লাখ বাসিন্দার একটি বলকান দেশ। পশ্চিমে ইউরোপে পৌঁছাতে ইচ্ছুক অভিবাসীরা নিয়মিতই দেশটির সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে থাকেন। 

২০১৪ থেকে ২০১৭ সালে দেশটির সীমান্তে ২৫৯ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে এই কাঁটাতারের বেড়া বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সেটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে একশত সৈন্য পাঠানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পড়ুন>> ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা বদলে দিচ্ছেন অভিবাসন রাজনীতি

পাশপাশি সীমান্তে নতুন ক্যামেরা স্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন ইভান ডেমার্ডজিয়েভ ।

সীমান্তে অভিবাসীদের বেআইনি পুশব্যাকের অভিযোগে বুলগেরীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার সমালোচিত হয়েছে।

তুরস্কের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ-এর একটি সূত্র জানায়, “গত এপ্রিলে বুলগেরিয়ার সীমান্তরক্ষীরা অর্ধনগ্ন অবস্থায় অন্তত ৮৪ জন অভিবাসীকে তুরস্কে ফেরত পাঠায়েছে। ’’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এনজিও ও অভিবাসন সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে অভিবাসীদের আশ্রয় অধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে আসছে৷


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন