যুক্তরাজ্যে উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের একটি দল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
যুক্তরাজ্যে উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের একটি দল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ফরাসি উপকূল থেকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী পাচারে যুক্ত একটি ইরাকি-কুর্দি মানবপাচার নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার দাবি করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দায়িত্বে থাকা ফরাসি দপ্তর অক্রিয়েস্টের প্রধান বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানান।

গত বৃহস্পতিবার অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ফরাসি দপ্তর অক্রিয়েস্ট জানিয়েছে, উত্তর ফ্রান্সে মানবপাচারের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে লিল শহরের নিকটে অবস্থানরত একটি বড় ইরাকি-কুর্দি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানান, অভিযানের আগে সোমবার উত্তর ফ্রান্সে নটিক্যাল সরঞ্জাম সরবরাহকারী একটি কারখানার সন্ধান পান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কারখানাটি ব্যবহার করে চ্যানেল দিয়ে অভিবাসীদের পাচার করা হতো। 

আরও পড়ুন>> ফ্রান্সে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে এক এইচআইভি-পজিটিভ অভিবাসী

অক্রিয়েস্ট প্রধান জাভিয়ের দেলরিও জানান, “উক্ত কারখনায় ১৩টি নৌকা পাওয়া গেছে। প্রতিটি নৌকার সাহায্যে একবারে অন্তত ৫০ জন অভিবাসীকে বহন করা সম্ভব। এছাড়া সেখান থেকে ১৪টি নৌকার ইঞ্জিন, ৭০০টি লাইফ জ্যাকেট, প্রায় ১০০টি নৌকা স্ফীত করার মেশিন এবং ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, এ অভিযানে চার জন পুরুষ ও তিন নারীসহ সাত জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ছয় জনকে বৃহস্পতিবার বিচারের মুখোমুখি করা হয় এবং একজন নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন ইরাকি-কুর্দি এবং বাকিরা ফরাসি নাগরিক।

পড়ুন>> কালেতে এনজিওগুলোর খাদ্য বিতরণ কর্মসূচী নিষিদ্ধের ডিক্রিটি ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’

‘প্রতিবার পাচারে ৮০ লাখ টাকা’

অক্রিয়েস্টের তদন্তকারী দলের মতে, চলতি বছর গ্রীষ্মের পর থেকে এই মানবপাচার নেটওয়ার্কটি সর্বমোট ৮০টি সমুদ্র পারাপার বা ক্রসিং এর আয়োজন করেছে। যার মধ্যে ৫০টি সফল হয়েছে৷ প্রতিটি সফল পাচারের পর নেটওয়ার্কটি ৮০ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

আরও পড়ুন>> ‌উত্তর ফ্রান্সে আবারও পাচারকারীদের মধ্যে গোলাগুলি

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক একটি গোয়েন্দা রিপোর্ট ফ্রাঙ্কো-ব্রিটিশ অপারেশনাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে অবহিত করার পর এই অভিযানের তদন্ত শুরু হয়েছিল। 

ইউরোপোল এবং ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের (বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি) সাথে সমন্বয় করে মানবপাচারের বিরুদ্ধে গঠিত একটি কমিশন নিয়মিত নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করে থাকে।

পড়ুন>> চ্যানেলে ২৭ অভিবাসী মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে ১০ সন্দেহভাজন

ঘটনার সুত্রপাত হয় জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসের সীমান্তে একজন ফরাসি যুবকের গতিবিধি নজরদারিকে কেন্দ্র করে। 

পরবর্তীতে পুলিশ অধিকতর তদন্তে জানতে পারে, উক্ত যুবক অভিবাসী পাচারে ব্যবহৃত নৌকাগুলো জার্মানি থেকে ক্রয় করে নেদারল্যান্ডসের মধ্য দিয়ে পরিবহন করে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৌঁছেছিল।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে ৩০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার। 


এমএইউ/আরআর




 

অন্যান্য প্রতিবেদন