সাইপ্রাসে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা সংক্রান্ত  প্রশাসনিক আদালতের সামনে আবদেনকারীদের ভিড়৷ ছবি:আরাফাতুল ইসলাম/ডয়েচে ভেলে
সাইপ্রাসে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদালতের সামনে আবদেনকারীদের ভিড়৷ ছবি:আরাফাতুল ইসলাম/ডয়েচে ভেলে

চলতি বছর আশ্রয়প্রার্থীদের চাপ বাড়ায় তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাইপ্রাস৷ এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে দ্বীপ রাষ্ট্রটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস নুরিস শিগগিরই জাতিসংঘ সদর দফতরে যাবেন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৫,১৩০ জন আশ্রয়প্রার্থী রিপাবলিক অব সাইপ্রাসে আশ্রয় আবেদন করেন। এদের বেশিরভাগই তুরস্কের দখলে থাকা নর্থ সাইপ্রাস থেকে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বীপরাষ্ট্রটির।  

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস নুরিস দাবি করেছেন, নর্থ সাইপ্রাস থেকে সাইপ্রাসে অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশের এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র দেশ যেখানে জনসংখ্যার বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি আশ্রয়প্রার্থী রয়েছে।

আরও পড়ুন>> সাইপ্রাসে মানবপাচার: চক্রের সন্ধানে ব়্যাব, কুমিল্লায় গ্রেপ্তার ৩

নিকোস নুরিস সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনকে ‘তুষারপাতের’ সাথে তুলনা করেছেন।

তিনি সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের কাছে সহায়তা চাইবেন বলে জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের চিফ অফ স্টাফ কোর্টেনে রাত্রে এবং শান্তি রক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার সাথে দেখা করে পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরবেন।

নুরিস বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, “আমরা অভিবাসী আগমনের যে সমস্যা মোকাবেলা করছি তা তারা কীভাবে দেখছেন তা নিয়ে আলোচনা করতে চাই।”

পড়ুন>> উত্তর সাইপ্রাসে অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তার দায়ে আটক দুই বাংলাদেশি

অপরদিকে, জাতিসংঘ, শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসাবে, নর্থ সাইপ্রাস থেকে সাইপ্রাসকে পৃথককারী ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রিন লাইন জুড়ে হস্তক্ষেপ করার আদেশ দিয়েছে। কিন্তু এই আদেশ অভিবাসন প্রবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যে কোন ভূমিকা রাখবে না বলে মনে করে সাইপ্রাস। 

সংকট মোকাবেলায় বর্তমানে নিকোসিয়া কর্তৃপক্ষ সীমান্তে নিজ উদ্যোগে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি অব্যাহত রেখেছে এবং অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করছে। পাশাপাশি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ৩০০ সদস্যের একটি ব্রিগেডও টহল দেওয়ার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে।


১৯৭৪ সালে দুই ভাগে বিভক্ত হয় ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাস৷ বর্তমানে উত্তরাংশ তুর্কি ভাষাভাষী অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে৷ নিজেদের স্বাধীন দাবি করে আসা টার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাসকে স্বীকৃতি দিয়েছে শুধু তুরস্ক৷

অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রিপাবলিক অব সাইপ্রাসে বাস করেন গ্রিক ভাষাভাষী সাত লাখ নাগরিক৷ এদের বাইরে আছেন বৈধভাবে বসবাস করা এক লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী৷



এমএইউ/জেডএ


 

অন্যান্য প্রতিবেদন