গ্রিসের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী নোতিস মিতারাচি | ছবি: আরাফাতুল ইসলাম
গ্রিসের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী নোতিস মিতারাচি | ছবি: আরাফাতুল ইসলাম

ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে গ্রিস৷ বিশ্বের অন্যান্য দেশের শরণার্থীরা ইউক্রেনীয়দের মতো একই ধরনের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না বলে মনে করে সমুদ্র উপকূলের দেশটি৷

গ্রিসের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী নোতিস মিতারাচি সোমবার ইইউভুক্ত বিভিন্ন দেশে থাকা শরণার্থীদের চলাফেরার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে দিতে জোটটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ 

এসময় তিনি ইউক্রেন থেকে আসা শরণার্থীদেরকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শরণার্থীদের তুলনায় আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার ইইউ নীতির সমালোচনা করেন৷ 

ইইউভুক্ত দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া শরণার্থীরা বর্তমানে জোটভুক্ত দেশগুলোতে মুক্তভাবে চলাফেরার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিতে পারেন না৷ কিন্তু ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এধরনের নিষেধাজ্ঞা বেশ কম৷  

‘‘এটা ঠিক নয়, এবং গ্রিস এই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিবে… ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা যা পাচ্ছেন অন্যান্য শরণার্থীদেরও সেটা পাওয়া উচিত,’’ বলেন মিতারাচি৷ 

‘‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইইউ একপর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে শরণার্থীরা যে দেশ হয়ে ইউরোপে ঢুকবে, তাদেরকে সেদেশেই পার্ক করে রাখা হবে,’’ যোগ করেন তিনি৷ 

ইইউ অবশ্য শরণার্থী বিষয়ক নীতির ক্ষেত্রে জোটভুক্ত বিভিন্ন দেশের মধ্যকার পার্থক্য নিরসনে হিমশিম খাচ্ছে৷ আগামী বছর এই বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি করতে পারে জোটটি৷

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির সময় শেঙ্গেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে চলাফেরার ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল৷ সেসময় সীমান্তও বন্ধ করে দিয়েছিল কিছু দেশ৷ তবে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলেও অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স ও সুইডেন এখনো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে৷ 

শেঙ্গেন চুক্তি অনুযায়ী, জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার সীমান্তে ছয় মাসের বেশি সময় এভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না৷ যদি তারপরও সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়োজন হয়, তবে সেক্ষেত্রে নতুন করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের বিধান রয়েছে৷ 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপমুখী বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ শরণার্থী ও অভিবাসী অনিয়মিত পথে শুরুতে গ্রিসে প্রবেশ করছেন৷ তাদের অনেকেই ইরাক এবং সিরিয়ায় চলা যুদ্ধ থেকে বাঁচতে এই পথ ধরেন৷ তবে, অভিবাসী ও শরণার্থীদের এই ঢল থামাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে থাকা সীমান্তে ইস্পাতের দেয়ালও তুলেছে গ্রিস৷ 

এআই/এফএস (এপি) 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন