মাল্টা সরকার মনে করছে, অভিবাসনের বিষয়ে ইটালির নতুন সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ভূমধ্যসাগর হয়ে দেশটিতে আসা অভিবাসীর সংখ্যা বাড়বে। 
ফাইল ফটো। রয়টার্স।
মাল্টা সরকার মনে করছে, অভিবাসনের বিষয়ে ইটালির নতুন সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ভূমধ্যসাগর হয়ে দেশটিতে আসা অভিবাসীর সংখ্যা বাড়বে। ফাইল ফটো। রয়টার্স।

ইটালির নির্বাচনে ব্রাদার্স অব ইটালির নেতৃত্বাধীন জোটের জয়ে দেশটির অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এদিকে ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা ইটালির অভিবাসন নীতির এই সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মাল্টা সরকার মনে করছে, অভিবাসনের বিষয়ে ইটালির নতুন সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ভূমধ্যসাগর হয়ে দেশটিতে আসা অভিবাসীর সংখ্যা বাড়বে। 

ইটালির নির্বাচনি প্রচারণায় জর্জা মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট জানায়, তারা ক্ষমতায় এলে অভিবাসনের বিষয়ে আরো কঠোর হবে। 

আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলো থেকে অভিবাসন ঠেকাতে ভূমধ্যসাগরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে বলেও জানিয়েছে তারা।  

গত ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে জয়ী ডানপন্থি দলটি ইটালির পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। 

এমন পরিস্থিতিতে মাল্টার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারন কামিলেরি বলেন, "অভিবাসন বিষয়ে ইটালির নতুন সরকার নতুন নীতি আনতে পারে।"  

তিনি বলেন, ''যেহেতু মাল্টা ও ইটালি ভূমধ্যসাগরে একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, এই সমস্যার সমাধানে দুই দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে।"

সেইসাথে অভিবাসনের বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ভূমধ্যসাগরের অপর তীরে অবস্থিত আফ্রিকার দেশ লিবিয়া ও টিউনিশিয়ার সাথে একসাথে কাজ করার কথা বলেন তিনি। 

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে আসার চেষ্টা করে। তাদের অনেকেই নৌকায় ইটালিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ইটালির ক্ষমতায় আসতে যাওয়া নতুন সরকার যদি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেশটিতে প্রবেশ করতে না দেয় তাহলে ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত আরেক দেশ মাল্টার উপর চাপ বাড়তে পারে। 

পুশব্যাক করে মাল্টা!

এদিকে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারে নিয়োজিত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার দাবি, মাল্টা সরকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারকারী জাহাজকে তাদের বন্দরে ভিড়তে দেয় না। এমনকি মাল্টা সরকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পুশ্যব্যাকের সাথেও জড়িত বলে দাবি বিভিন্ন সংস্থার। 

তবে কেউ কেউ বলছে, দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা একটি ছোট দেশ এবং এর জনসংখ্যাও অনেক কম। জানা গেছে, মাল্টা ইউরোপের সবচেয়ে কম জনবহুল দেশ। আর এ কারণে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আশ্রয় দেওয়ার সার্মথ্যও ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম।

উল্লেখ্য, জর্জা মেলোনি ২০১৮-২০১৯ মেয়াদে মাত্তেও সালভিনি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় তিনি অভিবাসীদের জন্য বন্দর বন্ধ রাখার বিষয়ে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করছিলেন। এর ফলে অভিবাসীদের অনেকেই তখন মাল্টায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

আরআর/এসিবি (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন