আফগানিস্তান থেকে দ্রুত সরিয়ে আনা ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিমান ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারিসে পৌঁছায়৷ ছবি: রয়টার্স/সারাহ মেসোনিয়ার
আফগানিস্তান থেকে দ্রুত সরিয়ে আনা ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিমান ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারিসে পৌঁছায়৷ ছবি: রয়টার্স/সারাহ মেসোনিয়ার

আফগানিস্তানে নিপীড়নের সম্মুখীন হওয়া হাজার জনকে প্রতি মাসে স্থানান্তরে সাহায্য করতে নতুন একটি মানবিক কর্মসূচি চালু করেছে জার্মানি ৷ এই প্রকল্পকে ‘আভিজাত্যের প্রকাশ’, ‘অলসতা’ বলে অভিযোগ জানিয়েছেন কেউ কেউ।

জার্মান শরণার্থী দাতব্য সংস্থা প্রো-আসিলের প্রধান, গ্যুন্টার বুরখার্ডট, নিপীড়নের শিকার আফগান নাগরিকদের স্থানান্তরে জার্মানির নতুন এই প্রকল্পের সমালোচনা করেন। কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, প্রতি মাসে হাজার জনকে সুরক্ষা দিতে চাওয়া এই প্রকল্পের ঘাটতি রয়েছে। এই সংখ্যা অত্যন্ত কম।

জার্মান সংবাদপত্র প্রকাশনা আরএনডি নেটওয়ার্ককে বুরখার্ডট বলেন, "নিপীড়নের প্রকৃত চাপ বিবেচনা করলে স্বল্প সংখ্যক মানুষ (আফগানিস্তানে) গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের জন্য লড়াই করেছে। সংখ্যাটা ভীতিপ্রদ।"

প্রো-আসিল টুইট করেছে, প্রকল্পটি তালেবানের হাতে নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের জন্য "আশার আলো" দেখাচ্ছে। তাই এটির উন্নতিতে একাধিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

'সুরক্ষা লটারি'

বুরখার্ডট জোর দেন নয়া প্রকল্প বা কার্যক্রমটিতে সুরক্ষা মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। তিনি বলেন, "আজ পর্যন্ত, জার্মানিতে যারা এসেছেন, তারা মূলত জার্মানির সামরিক বাহিনী বা অন্যান্য জার্মান সংস্থার সঙ্গে কখনো না কখনো যুক্ত ছিলেন।"

আজ অবধি, প্রায় ২৬ হাজার আফগান নাগরিককে জার্মানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মোট ৩৮ হাজার আফগানকে জার্মানিতে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ নতুন প্রকল্পের ফলে জার্মান নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা নিপীড়নের ঝুঁকিতে থাকা আফগানদের নাম প্রস্তাব করবেন।

এই নতুন প্রকল্পে মূলত নারীরা প্রাধান্য পাবেন৷ এ ছাড়া মানবাধিকার, রাজনীতি, ন্যায়বিচার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ধর্ম, লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষের পাশে থাকাও এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য৷

বুরখার্ডটের দৃষ্টিতে, এটি একটি "উন্মাদ আমলাতান্ত্রিক প্রচেষ্টা" এবং "নৈতিকভাবে অত্যন্ত দ্বিধাবিভক্ত একটি সুরক্ষা লটারি" বলা যেতে পারে।

যারা আফগানিস্তানকে বিশ্বাস করেছিল, তাদের বাঁচানো

বেয়ারবক বলেন, আফগানিস্তানের অনেক মানুষ নিপীড়ন এবং সহিংসতার ভয় নিয়ে প্রতিদিন বেঁচে রয়েছেন৷ আমাদের মতো তারাও বিশ্বাস করেন, আফগানিস্তানের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে, তাই তারা এই লড়াই করছেন৷

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক জানান, এই প্রকল্পটি বিশেষত সেই নারীদের কথা ভেবে গত বছর থেকে যাদের ন্যূনতম অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, যাদের আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা সহিংসভাবে দমন করা হয়েছে৷ বেঁচে থাকার আশাটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন তারা অনেকেই৷

দ্বিচারিতা?

প্রো-আসিলের বুরখার্ডট উল্লেখ করেছেন চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেন থেকে লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে আসার সময় এ ধরনের কোনো নৈতিক বা নৈতিক প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়নি।

অনেক সংস্থা অভিযোগ করেছে, জার্মান সরকারকে তালেবান শাসন থেকে পালিয়ে আসা আফগানদের চেয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ শরণার্থীদের অনেক বেশি সাদরে গ্রহণ করেছে।

প্রো-আসিল এই বিষয়টিরও সমালোচনা করেছেন যে নতুন প্রকল্প শুধুমাত্র আফগানিস্তানে আটকে থাকা আফগান নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, এবং যারা ইতিমধ্যে তৃতীয় দেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

সময়ের বিপরীতে দৌড়?

বাম দলের (ডি লিঙ্কে) মুখপাত্র ক্লারা ব্যুঙ্গার শরণার্থী নীতি নিয়ে বলেন, "প্রতি মাসে হাজার জনকে স্থানান্তর করার অর্থ সংখ্যাটি হতাশাজনকভাবে কম।"

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তালেবানরা আফগানিস্তানে সহিংস উপায়ে ক্ষমতায় আসার পর ১৪ মাসে ৩০ জনেরও বেশি মানুষকে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছিলেন। তালেবান শাসনে ইতিমধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।


আরকেসি/এডিকে (কেএনএ, এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন