সাগর পাড়ি দিয়ে ইটালির দ্বীপ লাম্পেদুসায় পোঁছেছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা৷ ছবি: আনসা/এলিও ডেসিডেরিও
সাগর পাড়ি দিয়ে ইটালির দ্বীপ লাম্পেদুসায় পোঁছেছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা৷ ছবি: আনসা/এলিও ডেসিডেরিও

উপকূল থেকে নৌকা ছাড়ার সময় তাড়া থাকায় মা-বাবা উঠতে পারেননি৷ মা-বাবা না থাকলেও নৌকার অন্য সবার সাথে প্রায় ২৫ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে অভিবাসনের আশায় ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত ইটালির দ্বীপ লাম্পেদুসায় পৌঁছেছে চার বছরের এক শিশু৷

রোববার টিউনিশিয়ার উপকূল থেকে ইটালির উদ্দশ্যে যাত্রা করে নৌকাটি৷ একদল অভিবাসনপ্রত্যাশীর সাথে নৌকায় উঠার চেষ্টা করছিলেন শিশুটির বাবা-মা এবং বোন৷ কিন্তু উপকূলরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাত্রা করতে হলে খুব বেশি সময় নেই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের হাতে৷ এই পরিস্থিতিতে ভীড়ের মধ্যে নৌকায় উঠতে পারেনি শিশুটির পরিবার৷ আনুমানিক ৭০জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিয়ে যাত্রা করে নৌকাটি৷ 

এরপর প্রায় ইটালির লাম্পেদুসায় পৌঁছার আগে ২৫ ঘণ্টা সমুদ্রে কাটায় নৌকাটি৷ এসময় নৌকায় থাকা এক অভিবাসনপ্রত্যাশী শিশুটির দেখাশোনা করেন বলে জানা গেছে৷  



লাম্পেদুসায় পৌঁছার পর শিশুটিকে অন্যান্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সাথে ইটালির সিসিলিতে নিয়ে যাওয়া হয়ছে৷

লম্পেদুসার সেভ দ্যা চিলড্রেনের মুখপাত্র গিওভানা ডি বেনেদেত্তো জানান, খবর পাওয়ার পর তারা শিশুটির সহায়তায় এগিয়ে যায়৷ এসময় সেভ দ্যা চিলড্রেনের কর্মীরা শিশুটির সাথে কথা বলে তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করে৷ 

তিনি বলেন, ‘‘আমারা মনে করি নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিশুটির বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত৷’’

দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিবারকে তার সাথে একত্রিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান৷

বাবা-মা আটক

জানা গেছে টিউনিশিয়ার মাহিদা উপকূল থেকে নৌকাটি ইটালির উদ্দশ্যে যাত্রা করে৷ কিন্তু যাত্রার শুরুর দিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরলে শিশুটির বাবা-মা এবং তার সাত বছর বয়সি বোন নৌকায় উঠতে পারেনি৷  

টিউনিশিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মাজদি কারবাই যিনি বর্তমানে ইটালিতে অবস্থান করছেন এবং সেভ দ্যা চিলড্রেনে কাজ করছেন জানান, যাত্রা শুরুর সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিশুটির পরিবার আর নৌকায় উঠতে পারেনি৷ 



ইটালির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রাই নিউজের খবরে বলা হয়, শিশুটির বাবা-মাকে আটক করেছে টিউনিশিয়া পুলিশ৷ এক টুইটে মাজদি কারবাই জানান, শিশুটির বাবা-মা পুলিশের জিম্মায় থাকবে কি না এবং তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হবে কি না সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সিদ্ধান্ত নেবে৷  

আরআর/এডিকে (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন