গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা শুরুর করার পর হাজার হাজার শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় নেন৷ফাইল ফটো৷ ক্রিস্টোফ সোডের/ডিপিএ/পিকচার অ্যালায়েন্স
গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা শুরুর করার পর হাজার হাজার শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় নেন৷ফাইল ফটো৷ ক্রিস্টোফ সোডের/ডিপিএ/পিকচার অ্যালায়েন্স

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা শুরুর করার পর হাজার হাজার শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় নেন৷ কিন্তু বিশাল সংখ্যার এই শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে জার্মানির অনেক শহর৷

শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দেওয়ার জায়গা আছে৷ কিন্তু কতজনকে এভাবে আশ্রয় দেওয়া যায়৷ রাজধানী বার্লিনের নিকটবর্তী কোটবুস শহরের এক কর্মকর্তা এভাবেই বলছিলেন বর্তমান পরিস্থিতির কথা৷

থাকার জায়গা দেওয়া বিষয়টি আসলে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার যে লম্বা প্রক্রিয়া তার একটি মাত্র অংশ৷ কোটবুস শহরে আশ্রয় নেওয়া ইউক্রেনের শরণার্থীদের বেশিরভাগই নিজ উদ্যোগে থাকার জায়গা করে নিয়েছেন বলে জানালেন শহরটির একজন কর্মকর্তা৷ যদিও নিজেদের তৈরি বসতঘর খুব একটা মানসম্পন্ন নয়, জানালেন ওই কর্মকর্তা৷  

আর এসকল শরণার্থীকে সমাজে একীভূত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কোটবুসের ইন্টিগ্রেশন অফিসের একজন কর্মকর্তা স্টেফানি ক্যাগুসুগ-শুরমান জানান, শরণার্থীদের ঠিকমতো সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় স্টাফ তাদের নেই৷ তাছাড়া শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থাও ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে৷

পড়ুন: ‘উদ্ধারকাজে নিয়োজিত জার্মান বিমানে গুলি করার হুমকি লিবিয়ার’

জার্মানদের উপর চাপ

কোটবুস শহরটির পোল্যান্ডের সীমান্তে হওয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর লাখ লাখ শরণার্থী এই শহরের উপর দিয়ে জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে এসেছেন৷ সরকারি তথ্য অনুসারে, ১৫শ’ শরণার্থী কোটবুস শহরে আশ্রয় নিয়েছেন৷ এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশই শিশু আর তরুণ৷ এসকল তরুণ ও শিশুদের প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থা, ভাষাগত দক্ষতা এবং যুদ্ধের পরে তৈরি হওয়া চাপ থেকে বেরিয়ে আসার মানসিক সহায়তা৷

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই এই শহরটির বাসিন্দারা নানান সমস্যায় ভুগছিলেন৷ আর নতুন করে আসা শরণার্থীদের কারণে চাপ আরো বেড়ে যায়৷ শরণার্থীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দরকার৷  

শরণার্থী ইস্যুটি মুলত জার্মানির একটি জাতীয় বিষয়৷ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো অঞ্চলের আয়কর ও জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে শরণার্থীদের বিভিন্ন শহরে থাকতে দেওয়ার কথা৷ কোটবুস শহরটি জার্মানির ব্রান্ডেনব্যুর্গ রাজ্যে অবস্থিত সেখানে শতকরা তিনভাগ শরণার্থী আসার কথা৷ 

হিসেব অনুযায়ী, জার্মানির ১৬টি রাজ্যের ১২টি রাজ্যই ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে৷  

পড়ুন: আফগানদের জন্য জার্মানির নয়া প্রকল্পে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আর পূর্বাঞ্চলীয় কোটবুস শহর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, আর কোনো শরণার্থীকে জায়গা দেবে না তারা৷ কিন্তু তারপরও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি৷ 

স্টেফানি ক্যাগুসুগ-শুরমান অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেন৷ সেই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুর্বল সমন্বয় ব্যবস্থাকে এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন তিনি৷ 

বাড়ছে শরণার্থী

পূর্ব জার্মানির শহর কোটবুসে বেকারত্বের হারও অনেক বেশি৷ সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসের হিসেব অনুযায়ী, পুরো জার্মানিতে বেকারত্বের হার পাঁচ দশমিক চার ভাগ৷ কিন্তু কোটবুস শহরে এই সংখ্যা সাত দশমিক দুই ভাগ৷ আর তাই নতুন করে আসা শরণার্থীদের বিষয়ে চাপে থাকতে হয় শহর কর্তৃক্ষকে৷

পড়ুন: জার্মানিতে এখন রেকর্ড জনসংখ্যা

শহরটিতে ক্রমেই বাড়ছে শরণার্থীদের সংখ্যা৷ ২০১৪ সালে শহরটির জনসংখ্যার চার দশমিক পাঁচ ভাগ ছিল বিদেশি বংশোদ্ভূত৷ আর বর্তমানে প্রতি দশ জনে একজন অর্থাৎ শতকরা ১০ ভাগ বিদেশি বংশোদ্ভূত৷

তবে অভিবাসীরা অবশ্য শহর কর্তৃপক্ষের নতুন আর শরণার্থী না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে খুব একটি ভাল চোখে দেখছেন না৷ 

শহরটির বাসিন্দা সিরীয় শরণার্থী এনাস টাটাক বলেন, শহর কর্তৃপক্ষ আর কোনো শরণার্থী জায়গা দেবে না, এই বিষয়টি আসলে দুভার্গ্যজনক৷ কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে কী কী কারণে শহরের ধারণ ক্ষমতা এবং সক্ষমতা কমে যাচ্ছে৷

উইলিয়াম নোয়াহ গ্লুক্রফট/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন