চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৩শ অভিবাসনপ্রত্যাশী জার্মানির বিভিন্ন গির্জায় আশ্রয় নিয়েছেন৷ ফাইল ফটো৷ আর ফুখস/ডিডাব্লিও
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৩শ অভিবাসনপ্রত্যাশী জার্মানির বিভিন্ন গির্জায় আশ্রয় নিয়েছেন৷ ফাইল ফটো৷ আর ফুখস/ডিডাব্লিও

শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান বিষয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আর বাড়াতে চায় না জার্মান সরকার৷ গত বছর ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধারণা করা হয়েছিল যে, আশ্রয়প্রদান বিষয়ে দেশটির গির্জাগুলোর জন্য আরোপিত নিয়মকানুন আরো শিথিল করা হবে৷

সরকার বলছে, ঐতিহ্যবাহী অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চার্চের আশ্রয়প্রদানের এই বিষয়টির প্রতি সরকারের শ্রদ্ধা রয়েছে৷ কিন্তু গির্জার আশ্রয় দেওয়ার এই ধারার কোনো আইনি ভিত্তি নেই৷ 

জার্মানির মাইগ্রেশন এবং রিফিউজি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সংবাদসংস্থা কেএনএ-কে বলেন, ‘‘চার্চের মতো পবিত্র জায়গায় আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিকে সরকার শ্রদ্ধা করবে কারণ জার্মানির সাংবিধানিক বিধিতে গির্জার বিশেষ অবস্থান রয়েছে৷ আশ্রয়প্রার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক এই জায়গাগুলোতে প্রবেশ করবে না৷’’

পড়ুন: অভিবাসন বিষয়ে জার্মানি-ইটালি আলোচনা

সরকারের এই কর্মকর্তা অবশ্য জার্মানির ক্যাথলিক এবং লুথেরান চার্চগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেন৷ এই চার্চগুলো জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত কর দিয়ে পরিচালিত হয়৷ তবে ছোট ছোট যে চার্চ ও উপসনালয়গুলো কোনো সরকারি সহযোগিতা পায় না তারা আশ্রয়প্রদান বিষয়ে এই সুবিধা ভোগ করবে না৷

জটিল আইন 

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৩শ অভিবাসনপ্রত্যাশী জার্মানির বিভিন্ন গির্জায় আশ্রয় নিয়েছেন৷ যদিও সরকারের কাছ থেকে পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যার তুলনায় চার্চে আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম৷ তবে এ বিষয়ে নানা আইনি জটিলতা রয়েছে৷ 

২০১৫ সালে সরকার ও গির্জাগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়৷ চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি গির্জার মাধ্যমে আশ্রয় পেলে গির্জা কর্তৃপক্ষকে তা সরকারকে জানাতে হয়৷ আর আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তির আবেদন তখন পুনর্মূল্যায়ন করবে সরকার৷

পড়ুন: গ্রিসে নিজস্ব কবরস্থানের দাবি মুসলিম অভিবাসীদের

চুক্তিতে আরো বলা হয়, আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন বাতিল হওয়ার পরে সেই ব্যক্তিকে যদি কোনো গির্জা আশ্রয় প্রদান করে তাহলে গির্জা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা যাবে না৷

এই প্রেক্ষিতে বলা যায়, এধরনের আশ্রয় প্রদানের জন্য গির্জা কর্তৃপক্ষকে শাস্তি প্রদান করা যাবে না৷ তবে, আবেদন বাতিল হওয়া কোনো ব্যক্তিকে গির্জায় আশ্রয় নিতে উৎসাহিতও করতে পারবে না গির্জা কর্তৃপক্ষ৷ 

আরআর/জেডএইচ (কেএনএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন