চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়া সীমান্তে দায়িত্বরত এক পুলিশ৷ ফাইল ফটো৷ রয়টার্স৷ রাডোভান স্টোক্লাসা৷
চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়া সীমান্তে দায়িত্বরত এক পুলিশ৷ ফাইল ফটো৷ রয়টার্স৷ রাডোভান স্টোক্লাসা৷

শেঙ্গেন চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ধরনের চেকিং ছাড়াই মানুষ এবং পণ্যসামগ্রী চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ২৬ দেশের সীমান্ত অবাধে অতিক্রম করতে পারে।

তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে বিবেচনায় বর্ডারে নিরাপত্তা তল্লাশি করা যেতে পারে৷ কিন্তু তা হতে হবে যথাযথ৷ 

বিভিন্ন দেশের বাস্তুচ্যুত মানুষ অধিকহারে ইউরোপ প্রবেশ করতে থাকার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে জার্মানি ও ডেনমার্কসহ শেঙ্গেন আওতাভুক্ত অন্যান্য দেশসমুহ অস্থায়ী ভিত্তিতে সীমানায় তল্লাশি পুনরায় শুরু করে৷ পরবর্তীতে ছয় মাসের জন্য তা বাড়ানো হয়৷ 

এরপর এপ্রিল মাসে ইইউ আদালত এক আদেশে নিরাপত্তার অজুহাতে এভাবে তল্লাশির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো এখতিয়ার শেঙ্গেনভুক্ত দেশগুলোর নাই বলে এক আদেশে জানায়৷

২০১৯ সালে ডয়েচে ভেলের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শেঙ্গেন চুক্তির শর্তাবলী লঙ্ঘন করা হচ্ছে৷ অথচ এই চুক্তিতে সই করা দেশগুলোর চুক্তির সব শর্ত মেনে চলার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷ 

রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল

আইন লঙ্ঘন করলে ইউরোপীয় কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে সতর্ক করা, মনে করিয়ে দেয়া যে আইন লঙ্ঘনের জন্য বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার হতে পারে৷ 

উদাহরণ হিসেবে স্পেনের কথা এখানে বলা যেতে পারে৷ ২০১৮ সালে দেশটি সকল ইইউ নাগরিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করার সুযোগ করে দেয়ার বাধ্যতামূলক নিয়ম পুরোপুরি প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় কমিশন নিয়ম পুরোপুরি প্রয়োগ না করা পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ হাজার ইউরো জরিমানা দেয়ার আদেশ প্রদান করে৷ 

কিন্তু বর্ডারে তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও কমিশন এখন পর্যন্ত কোন দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেয়নি৷ 

‘‘বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে খুবই সংবেদনশীল,’’ বলছিলেন লিওন জুলিগ, যিনি ইউরোপের আভ্যন্তরীণ বর্ডার নিয়ে নিয়ে একটি গবেষণা করছেন৷ তার মতে, কোন ব্যবস্থা নেয়া হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও তাদের ইন্টেরিয়র মিনিস্টাররা ক্ষুব্ধ হতে পারেন৷ 

এ সম্পর্কে বক্তব্য নেয়ার জন্য ডয়েচে ভেলে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোন সাড়া মেলেনি৷

বর্ডার নিয়ন্ত্রণে নুতন প্রস্তাব

কমিশনের সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী শেঙ্গেন অঞ্চল নিয়ন্ত্রন করার নিয়মের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসবে৷ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সদস্য রাষ্ট্রগুলি এই "বিকল্প ব্যবস্থা" প্রবর্তন করতে পারবে৷ 

বর্তমানে শুধুমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমানায় প্রযুক্তি ব্যবহৃত করা হয়৷ এ নিয়ে এক আলোচনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে যে এই প্রযুক্তি শেঙ্গেন এলাকার ভিতরেও প্রয়োগ করা দরকার৷

প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয় নজরদারি মাধ্যমে একজন যাত্রীর নাম ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করতে পারবে৷ লিওন জুলিগ এটাকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ‘অদৃশ্যকরণ’ বলে অভিহিত করেন৷  

‘‘মৌলিক অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এধরনের ব্যবস্থাগুলো সম্ভবত শারীরিক বাধার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক৷ কারণ, এর মাধ্যমে ইইউ নাগরিকসহ সকলেরত হবে।”

একেএ/

প্রথম প্রকাশ: ডয়চে ভেলে, ১৭ নভেম্বর ২০২২

 

অন্যান্য প্রতিবেদন