যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া অভিবাসী আগমনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছে৷ ছবি: বেন স্ট্যান্সল/এএফপি ডিডাব্লিউয়ের মাধ্যমে
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া অভিবাসী আগমনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছে৷ ছবি: বেন স্ট্যান্সল/এএফপি ডিডাব্লিউয়ের মাধ্যমে

চলতি বছরে ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ৫০টি ডিপথেরিয়ার কেস শনাক্ত করেছে। সম্প্রতি প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে এই রোগে আক্রান্ত। জনাকীর্ণ অভিবাসন কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে এ বছরে। তবে তা ডিপথেরিয়ায় কিনা তা এখনো জানা যায়নি।

যুক্তরাজ্যের হেল্থ প্রোটেকশন এজেন্সি সোমবার জানিয়েছে, সম্ভবত নিজের দেশে বা যুক্তরাজ্যে আসার পথে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ইউরোপের অন্য কিছু জায়গাতেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে।

২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে ১১ জন ডিপথেরিয়া আক্রান্তের কথা জানা গিয়েছিল। যদিও তাদের বেশিরভাগই শৈশবে ডিপথেরিয়ার বিরুদ্ধে টিকা নিয়েছেন। এই রোগ হলে নাক, ​​গলা এবং কখনো সখনো ত্বকে সংক্রমণ ছড়ায়। ঠিক সময়ে যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে ফল মারাত্মক হতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আবাসনের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেলে আসা অভিবাসীদের দীর্ঘদিন এমনকি কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের অব্যবহৃত বিমানবন্দর ম্যানস্টনের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

গত মাসের একটা পর্যায়ে এক হাজার ৬০০ জনের থাকার জায়গায় চার হাজার জনকে থাকতে হচ্ছিল। এর মাঝে ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাবের ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ম্যানস্টনের কেন্দ্রে থাকা এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে তিনি মারা যান। ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রের ডিপথেরিয়ার পিসিআর পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছিল। অভিবাসন মন্ত্রী রবার্ট জেনরিক জানান, কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে।

প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে পৌঁছায়। ব্রিটেনে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার আশায় তারা সেখানে আসেন। পরিসংখ্যান বলছে, ডিঙি বা ছোট নৌকায় চেপে চ্যানেল পেরোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

বিপজ্জনক চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে এ বছর এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ এসেছেন। ২০২১ সালে সংখ্যাটা ছিল ২৮ হাজার, ২০২০ সালে তা ছিল আট হাজার ৫০০।

ক্রসিং রুখতে, ব্রিটেনের সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। অনিয়মিতভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেন আসা আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠাতে জনসন প্রশাসন রুয়ান্ডার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে।  সমালোচকরা বলছেন, পরিকল্পনাটি অনৈতিক এবং অবাস্তব। এটা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।


আরকেসি/এসিবি (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন