ফাইল ফটো: লরিতে লুকিয়ে কেউ যাতে সীমান্ত পার হতে না পারে তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ইউকে কর্তৃপক্ষ | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
ফাইল ফটো: লরিতে লুকিয়ে কেউ যাতে সীমান্ত পার হতে না পারে তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ইউকে কর্তৃপক্ষ | ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নানাভাবে নিজেদের লুকিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলেন তারা৷ গাড়ি, লরি, নৌকা, ট্রেন এমনকি প্লেনে লুকিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা৷

এভাবে নানা ঝুঁকি নিয়ে দেশান্তরী হতে গিয়ে ২০১৪ সাল থেকে এখন অবধি প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ হাজারের মতো অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ ইউরোপমুখী অনিয়মিত পথে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ৷ 

অভিবাসীরা কোন কোন বিপজ্জনক পথে যাত্রার চেষ্টা করেন জেনে নেয়া যাক চলুন৷ 

পায়ে হেঁটে 

ইংলিশ চ্যানেলের নীচে থাকা চ্যানেল টানেল পায়ে হেঁটে পার হওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে৷ ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যকে সংযুক্ত করেছে এই টানেল৷ কিন্তু টানেলটি ট্রেন চলাচলের উপযুক্ত৷ ফলে দেখা যায় পায়ে হেঁটে এই টানেল পার হতে গিয়ে অনেকে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হতাহত হন৷

এধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে টানেলের দুই পাশেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে৷ 

আরেকটি উদাহরণ হিসেবে উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের মেলিলা এবং সেউটা ছিটমহলের কথা বলা যেতে পারে৷ সেখানে অভিবাসীরা পাহাড়ে লুকিয়ে থাকেন এবং সুবিধাজনক সময় একত্রে অনেকে পায়ে হেঁটে ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা করেন৷ চলতি বছরের জুনে এভাবে চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ গেছে ২৩ অভিবাসীর৷ 

গাড়ির মধ্যে লুকিয়ে

অভিবাসীরা প্রায়ই লরি এবং বড় বিভিন্ন বাহনের মধ্যে লুকিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ কখনো কখনো সেসব বাহনের চালকরা এরসঙ্গে জড়িত থাকেন৷ দেখা যায় চালক কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন এবং অভিবাসীরা হতাহত হন৷ 

অক্সিজেনের অভাবে এসব বাহনের মধ্যে অভিবাসী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে৷ এভাবে যাত্রা করতে গিয়ে অনেক সময় হিটস্ট্রোকেও মৃত্যু ঘটে অভিবাসীদের৷ 

২০১৯ সালের অক্টোবরে লন্ডনের বাইরে পার্ক করা একটি লরি থেকে ৩৯ ভিয়েতনামী অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল৷ অস্ট্রিয়া এবং পূর্ব ইউরোপেও এরকম ঘটনা ঘটেছে৷

ট্রেনে লুকিয়ে যাত্রা করার সময় ধরা পড়েন এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: জার্মান পুলিশ
ট্রেনে লুকিয়ে যাত্রা করার সময় ধরা পড়েন এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: জার্মান পুলিশ

বিমানে করে 

বর্তমান ব্যবস্থায় নিরাপত্তা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো বিমানের কেবিনে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব৷ তবে বিমানের অন্যান্য বিভিন্ন অংশ রয়েছে যেগুলোতে প্রবেশ করে কেউ কেউ দেশান্তরী হতে চান৷ 

যেমন, কিছু অভিবাসনপ্রত্যাশী বিমানের চাকা রাখার স্থানে প্রবেশ করে কাঙ্খিত গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু এটা নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ৷ বিমানটি উড্ডয়নের পর চাকা সেই স্থানে চলে যায় আর বিমানের আকার অনুপাতে দেখা যায় যে কখনো কখনো চাকার চাপে সেখানে থাকা ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে৷ আর সেটা যদি নাও ঘটে আকাশে অক্সিজেনের অভাব এবং বরফ ঠান্ডায় মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে৷ 

তারপরও যদি কেউ বেঁচে থাকেন দেখা যাবে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন৷ আর তার জ্ঞান না থাকা অবস্থায় বিমান যখন অবতরণের জন্য চাকা বের করবে, তখন তিনি পড়ে গিয়ে মারা যেতে পারেন৷ 

মার্কিন কেন্দ্রীয় এভিয়েশন এজেন্সির হিসেব অনুযায়ী, ১৯৪৭ সাল থেকে এখন অবধি একশোর মতো এরকম ঘটনা ঘটেছে৷ আর তার এক চতুর্থাংশ শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকলেও বাকি জীবন প্রতিবন্ধী হয়ে থাকতে হয়েছে৷

নৌকায় করে 

লুকিয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার আরেক চেষ্টা করা হয় নৌকায় করে৷ যদিও জাহাজে এভাবে লুকিয়ে থাকাটি শুনতে নিরাপদ মনে হয়, কিন্তু খোলা সাগরে কেউ যদি ধরা পড়েন তাহলে কী হবে বলা মুশকিল৷ 

আন্তর্জাতিক এবং সমুদ্র আইনে সাগর থেকে মানুষকে উদ্ধার করার নিয়ম রয়েছে৷ তবে, সবাই যে সেই নিয়ম মানবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ 

জাহাজের রাডারে করে নাইজেরিয়া থেকে স্পেনের উপকূলে তিন ব্যক্তি
জাহাজের রাডারে করে নাইজেরিয়া থেকে স্পেনের উপকূলে তিন ব্যক্তি

চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্পেনের উপকূলরক্ষীরা তিনব্যক্তিকে উদ্ধার করেছেন যারা নাইজেরিয়া থেকে একটি কার্গো জাহাজের রাডারে করে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন৷  

তারা ছোট্ট একটু জায়গায় ১১ দিনের মতো ছিলেন৷ এরকম পরিস্থিতিতে কোনো সাক্ষী না থাকলে কখনো কখনো খোলা সাগরে অভিবাসীদের সাগরে ফেলে দেন জাহাজের নাবিক৷ আর তখন তাদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা থাকে না বলেই চলে৷

যেমন হর্ন অব আফ্রিকায় জলদস্যুরা প্রায়ই জাহাজ আটক করে মুক্তিপন আদায়ের চেষ্টা করে৷ সেখানে হঠাৎ জাহাজের গায়ে কাউকে আটকে থাকতে দেখলে তাকে জাহাজে তোলার সম্ভাবনা কম৷ 

এআই/কেএম

 

অন্যান্য প্রতিবেদন