(ফাইল ছবি)  পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে এখনও খোলা আকাশের নীচে আছেন হাজারো অভিবাসী৷ ছবি: রয়টার্স
(ফাইল ছবি) পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে এখনও খোলা আকাশের নীচে আছেন হাজারো অভিবাসী৷ ছবি: রয়টার্স

একদিকে ইস্পাতের প্রাচীর, অন্যদিকে অমানবিক পরিস্থিতি৷ পোল্যান্ড-বেলারুশ সীমান্তে আটকা পড়া অভিবাসী, শরণার্থীরা দিন পার করছেন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে৷

সীমান্তের অপর পাশে অভিবাসীরা আশায় দিন পার করছেন, হয়ত কোনো এক সময় পোল্যান্ড তাদের প্রবেশ করতে দেবে৷ সপ্তাহ, মাস পেরোলেও সেই দিন আসে না তাদের জন্য৷ এদিকে প্রতিদিনই তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমে যাচ্ছে৷ মানবাধিকার ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বার্লিনভিত্তিক সংস্থা ফেয়ার প্লে তাদের এক প্রতিবেদনে সেখানকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছে৷  

হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি 

এই অভিবাসীরা ইউক্রেন থেকে আগত শরণার্থীদের মতো চাইলেই পোল্যান্ডে ঢুকতে পারছেন না৷ তাদের আশ্রয় আবেদন প্রতিনিয়ত প্রত্যাখ্যান করছে ওয়ারশো৷ এমন অবস্থায় সীমান্তবর্তী জঙ্গলেই দিন পার করা ছাড়া যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তাদের৷ কোন তাঁবু বা আচ্ছাদন ছাড়া বৃষ্টি, তুষারপাতের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে তারা দিন পার করছেন৷ ঠান্ডাজনিত রোগ হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন অভিবাসীরা৷ ডমিনিক ডমানস্কি নামে পোল্যান্ডের একজন চিকিৎসক ফেয়ার প্ল্যানেটকে বলেন,‘‘যাদের হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ আছে তাদেরকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত৷ চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় তাদের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে৷’’ 

এর মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করা অভিবাসী, শরণার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা না করেই পোল্যান্ড অবৈধভাবে তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হেলসিঙ্কি ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থা৷

গত জুলাইতে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ শেষ করে পোল্যান্ড| ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
গত জুলাইতে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজ শেষ করে পোল্যান্ড| ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

  

মানবিক সহায়তায় বাধা 

গত বছরের জুলাই পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় পোলিশ সরকার জরুরি অবস্থা জারি রাখায় কোনো সংস্থা সেখানে মানবিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি৷ ১৮৬ কিলোমিটারব্যাপী পাঁচ দশমিক পাঁচ মিটার উঁচু দেয়াল নির্মাণের পর জরুরি অবস্থা তুলে নেয় তারা৷ অভিবাসী, শরণার্থীদের বাধা দেয়া এর মূল লক্ষ্য হলেও এ কারণে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোও তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না৷ তবে স্থানীয় কিছু দল জরুরি অবস্থা তুলে দেয়ার পর খাবার ও পোশাক দিয়ে অভিবাসীদের সহায়তা করার চেষ্টা করে৷ কিন্তু ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্সের মতো সংস্থা পোলিশ কর্তৃপক্ষের বাধার অভিযোগে সেখান থেকে নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়৷  

সম্প্রতি ইন্টার্সোস নামের একটি সংস্থা খুব সম্প্রতি সেখানে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করেছে৷ অভিবাসীদের ঠান্ডা ও মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সেখানে স্বাধীন সংস্থা ও ‘অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ’ এর উপস্থিতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে তারা৷  

সব মিলিয়ে সীমান্তে অবস্থান করা অভিবাসীরা বেলারুশ ও ইইর ‘হাইব্রিড লড়াইয়ের’ মধ্যে পড়েছেন৷ আগামী দিনগুলোতে ঠান্ডায় তাদের জন্য প্রয়োজন আরো মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সুবিধা৷  

বেলারুশ সীমান্তে এই অভিবাসী সংকটের এক বছর হতে চলেছে৷ ইউরোপের অভিযোগ, দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো অবরোধের প্রতিশোধ হিসেবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন৷  

সংখ্যার হিসাবে এক বছর আগের চেয়ে সেখানে সংকট অনেকটাই হয়ত কমেছে৷ কিন্তু এখনও হাজারো মানুষ জরুরি মানবিক সহায়তার অভাবে ভুগছেন সীমান্তে৷ 

গ্রুপা গ্রানিকা নামের এক এনজিওর তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক হাজার জনের কিছু বেশি অভিবাসী সেখানে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন৷  

এফএস/আরকেসি (ফেয়ার প্ল্যানেট)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন