বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশন।ছবি:আর্কাইভ/ইপিএ/জুলিয়ান ওয়ার্নান্ড
বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশন।ছবি:আর্কাইভ/ইপিএ/জুলিয়ান ওয়ার্নান্ড

ইউরোপীয় কমিশন অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তন বাড়ানোর জন্য একটি নতুন কৌশল নিয়েছে। ইইউ সদস্য দেশগুলিকে একযোগে কাজ করার পাশাপাশি ফ্রন্টেক্সের মতো সংস্থাকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ইউরোপীয় স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ইলভা ইওহানসন বলেছেন, যে অভিবাসীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের বা সেখানে থাকার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারবেন না, তাদের দেশে ফিরে যেতে হবে।

ইলভা বলেন, "যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার যোগ্য নন, তাদের অবশ্যই তাদের মূল দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রিটার্ন কোঅর্ডিনেটর মারি জুরিৎসচের সঙ্গে যুগ্মভাবে ব্রাসেলসে সংবাদ সম্মেলনের সময় একটি নতুন প্রত্যাবাসন কৌশলের কথা জানান, যাতে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

ব্লকটি বছরের পর বছর ধরে অনিয়মিত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আরো বেশি করে প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করছে। ২০২১ এপ্রিলে, ইইউ কমিশন প্রাথমিকভাবে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনকারীদের কথা ভেবে একটি কৌশলের কথা জানিয়েছিল। ইউরোপীয় কমিশন অনুসারে শুধুমাত্র ২১ শতাংশ অভিবাসী যারা অনিয়মিতভাবে ইইউতে প্রবেশ করেছিল তারা মূল দেশে ফিরে এসেছে, এমনকি তাদের আশ্রয়ের আবেদন একটি সদস্য রাষ্ট্র দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হলেও।

ইউরোস্ট্যাট অনুসারে, ২০২১ একটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ ছেড়ে যাওয়ার আদেশের সঙ্গে জারি করা নন-ইইউ নাগরিকদের মোট সংখ্যা ছিল তিন লাখ ৪২ বাজার ১০০ জন। ছেড়ে যাওয়ার আদেশের পর, ৮২ হাজার ৭০০ জন নন-ইইউ নাগরিককে অন্য দেশে (অন্যান্য ইইউ দেশগুলি সহ) ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন এবং অস্ট্রিয়া সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আশ্রয়ের আবেদন পেয়েছে।

ইইউ কীভাবে প্রত্যাবাসন বাড়াবে?

ইওহানসন জোর দিয়েছিলেন, প্রত্যাবাসনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে অবশ্যই একযোগে কাজ করতে হবে পাশাপাশি ইউরোপীয় বর্ডার এবং কোস্ট গার্ড এজেন্সির মতো ইইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ফ্রন্টেক্সের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে।

যে সব দেশ প্রত্যাখ্যান করা আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে নিতে রাজি নয় তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে ব্রাসেলস তাদের ভিসা নীতি ব্যবহার করতে চায়।

২০১৮ সালে প্রায় ৭০ শতাংশ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য ছিল ব্রাসেলসের। শুধুমাত্র ইইউ সদস্য দেশগুলির সাথে আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন আলোচনা এগোতে পারে। তবে ইওহানসন কিংবা জুরিৎসচ এই নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।


আরকেসি/এসিবি (ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন