ইইউর স্বেচ্ছা অভিবাসী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় গত বছর মাত্র ২০২৭ জন আশ্রয়প্রার্থীকে সদস্য দেশগুলোতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
ইইউর স্বেচ্ছা অভিবাসী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় গত বছর মাত্র ২০২৭ জন আশ্রয়প্রার্থীকে সদস্য দেশগুলোতে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

২০২২ সালের জুনে শুরু হওয়ার পর থেকে শুধুমাত্র ২০৭ জন আশ্রয়প্রার্থীকে ইইউর স্বেচ্ছাসেবী স্থানান্তর প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি অনেকটাই ‘ব্যর্থ’ হয়েছে বলে দাবি করেছে এনজিও স্টেটওয়াচ।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, ২০২২ সালের পহেলা ডিসেম্বর পর্যন্ত, শুধুমাত্র ২০৭ জন আশ্রয়প্রার্থীকে ইইউর স্থানান্তর কর্মসূচির আওতায় ইটালি থেকে অন্য ইউ দেশ থেকে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। 

এই প্রকল্পের শুরুতে লক্ষ্য ছিল আট হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে ইইউজুড়ে পাঠানো হবে । 

এনজিও স্টেটওয়াচ প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, মেড-৫ বা ভূমধ্যসাগরের তীরের পাঁচ ইইউ দেশ (সাইপ্রাস, গ্রিস, ইটালি, মাল্টা, স্পেন) থেকে প্রায় ৬০০টি প্রাথমিক স্থানান্তরের অনুমোদন দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত খুব কম স্থানান্তর বাস্তবায়ন হয়েছে। 

আরও পড়ুন>>ইটালির অভিবাসনবিরোধী ডিক্রি প্রত্যাহারের আর্জি ইইউর অধিকার কমিশনারের

আন্তজার্তিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুসারে, “২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের গ্রিসে আসা প্রায় ১৩ হাজার ও ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের রুটে স্পেনে আসা ২৯ হাজার অভিবাসীর তুলনায় স্থানান্তরের সংখ্যা একবিন্দু জলের সমান।” 

কার্যকর বা পর্যাপ্ত স্থানান্তর ছাড়াই অভিবাসীরা স্থানান্তরের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইইউ কমিশন। যা প্রক্রিয়াটির উপর অভিবাসীদের আস্থা হারাতে ভূমিকা রাখতে পারে।”

ইউরোপের ২৩টি দেশ অনুমোদিত, এই নতুন স্থানান্তর ব্যবস্থাটি ছয় মাস আগে এক বছরের নবায়নযোগ্য সময়সীমা রেখে প্রয়োগ করা শুরু হয়।

পড়ুন>>অভিবাসীবিরোধী সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে অর্থ দেবে না ইইউ

ফ্রান্স এবং জার্মানি-সহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো মেড-৫ভুক্ত দেশগুলোতে আসা আট হাজার অভিবাসীকে স্বাগত জানাতে সম্মত হয়েছিল। এই অভ্যর্থনা ব্যবস্থাটি একটি স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে করা হয়েছিল। অবশ্য এটি পালনে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। 

স্টেটওয়াচ কর্তৃক প্রকাশিত ইউরোপীয় কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, ইইউর দেশগুলিতে লোকেদের স্থানান্তরের জন্য গ্রহণ করতে ‘ব্যর্থতা’ পরিপ্রেক্ষিতে পুরো প্রোগ্রামটি সমস্যার মুখে পড়েছে।

সিদ্ধান্তহীনতার নজির

এই ব্যবস্থার অধীনে প্রথমবারের মতো ২০২২ সালের আগস্ট মাসে ৩৮জন অভিবাসী ইটালি থেকে ফ্রান্সে নিয়ে আসা হয়েছিল। 

ফ্রান্স এই প্রক্রিয়াটির প্রয়োগের জন্য প্রতি বছর তিন হাজার এবং জার্মানি তিন হাজার ৫০০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে গ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু প্রক্রিয়াটি শুরুর ছয় মাস পরে এখনও লক্ষ্য থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে। 

আরও পড়ুন>>আফগান নারী হলেই শরণার্থী মর্যাদার যোগ্য: ইইউ সংস্থা

২০১৫ সালে ইইউ কাউন্সিল গৃহীত পূর্ববর্তী প্রক্রিয়াটি সদস্য রাষ্ট্রগুলির জন্য একটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব ছিল। এটি এক লাখ ৬০ হাজার অভিবাসীর জন্য উদ্বেগজনক ছিল।

আইনের অধ্যাপক এবং কনভারজেন্সেস মাইগ্রেশন ইনস্টিটিউটের সদস্য মের-লর-বাসিলিয়া-গেইঞ্চ বলেন,

বাধ্যতামূলক সত্ত্বেও সে সময় এটি আশানুরূপ ফল দেয়নি।২০১৫/২০১৬ সময়কালে ইউরোপে আসা দশ লাখেরও বেশি শরণার্থীর মধ্যে এক লাখ ৬০ হাজার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া একটি হাস্যকর সংখ্যা ছিল।

২০১৫ সালে নেয়া প্রক্রিয়ায় ২০১৮ সালের ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার ৬৮৯ আশ্রয়প্রার্থীকে স্থানান্তর করা হয়েছিল"। এটি পরিকল্পিত প্রতিশ্রুতির মাত্র ৩৫ শতাংশ ।

ইনস্টিটিউট অফ মাইগ্রেশন পলিসিসের বিশ্লেষক ক্যামিল লে কোজ ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, “আমরা জানি এসব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক দিকটি কাজ করে না। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়াগুলো বাস্তবায়নের পুরো বিষয়টি পরিষ্কার নয়।”

পড়ুন>>ইইউ সীমান্তে ‘পাচারকারী’ সাব্যস্ত বহু অভিবাসী

তিনি আরো বলেন,

“বিভিন্ন সময়ে স্থানান্তর কার্যক্রমগুলো তুচ্ছ ও সহজ নয়, এগুলি ব্যাপক জটিল প্রক্রিয়া। ২০১৫ সালে প্রথম প্রক্রিয়াটির সময় বিভিন্ন কারিগরি প্রশ্নের কারণে প্রক্রিয়ায় দেরি হয়েছিল।”

তার মতে, “যেসব অভিবাসীদের আনা হবে তাদের অতীত আইনি ইতিহাস এবং তারা নিরাপত্তার জন্য কোনোরকম হুমকি তৈরি করতে পারে কি না,এসব প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে গিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলির কার্যক্রমের গতি কমে যায়।”


আরকেসি/এমএইউ       


 

অন্যান্য প্রতিবেদন