এক আফগান নারী। ছবি: রয়টার্স
এক আফগান নারী। ছবি: রয়টার্স

ইটালির সার্ডিনিয়া অঞ্চলে সম্প্রতি এসে পৌঁছেছেন এক আফগান শিক্ষিকা। তালেবান আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতা তুলে নেবার পর ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি।

পালিয়ে আসা এই শিক্ষিকা বার্তা সংস্থা আনসাকে জানান যে ১২ আগস্ট কাবুলের পতন ঘটবার আগে পর্যন্ত সব কিছু 'স্বাভাবিক ও শান্ত' ছিল।

"আমরা জানতাম যে কাবুল শহরের বাইরের অঞ্চলগুলিতে তালেবান জিতছে, কিন্তু জনজীবন স্বাভাবিকই ছিল", বলেন তিনি। এই শিক্ষিকা জানান যে পরীক্ষা দিতে সেই সময় সারা দেশ থেকে তার শিক্ষার্থীরা কাবুলে আসছিল তখন।

"পরীক্ষা একদম ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হয় ও আমরা খাতাগুলি নিয়ে বাসায় চলে আসি। শুক্রবারে ছুটি ছিল। আর তারপরেই শনিবারে সব বদলে গেলো। আমি স্কুলে যাবার জন্য বাসা থেকে বের হলাম। তখনই জানতে পারলাম যে কাবুলের ক্ষমতা তালেবানের হাতে।

আমাদের বলা হলো বাসায় চলে যেতে, আর যাতে বের না হই। তখনই বুঝে গিয়েছিলাম যে সব শেষ। স্কুল শেষ, আমাদের ভবিষ্যৎ আর নিরাপদ নয়।"

এই আফগান নারীর মতে, তার সামনে আর অন্য কোনো রাস্তা ছিল না। বিমানবন্দর পর্যন্ত শিশুদের সাথে করে নিয়ে যাওয়াটা বেশ দুষ্কর ছিল, জানান তিনি।

"কোনো মতে আমরা রোমে এসে পৌঁছাতে পারলাম। এখানে আমাদের খুব সুন্দরভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়। আমরা অবশেষে খুশি ছিলাম", জানান এই নারী। তারপরেই তাকে সার্ডিনিয়ার ক্যালিয়ারিতে স্থানান্তর করা হয়।

সবচেয়ে ভালো খবর তখন আসে "যখন আমরা জানতে পারি যে আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারবে। এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ হবে।"

"আমি একদিন ডাক্তার হব"

শিক্ষিকার সাথে দেশ ছেড়েছে বছর আঠেরোর এক কিশোরী, যার আর কিছু দিন বাদেই দ্বাদশ শ্রেণীতে ওঠার কথা ছিল। তার বক্তব্য, "আমি জানিনা কীভাবে করব, কিন্তু আমি এগিয়ে যেতে চাই। একদিন ডাক্তার হবার স্বপ্ন দেখি আমি।"

এই দুই নারী কীভাবে এসে পৌঁছায় সার্ডিনিয়াতে, সেই গল্প বলেন তাদের যাত্রাসঙ্গী এক পুরুষ। তিনি সাত সন্তানের পিতা।

তিনি বলেন, "আমরা যখন কাবুল বিমানবন্দরে পৌঁছাই, তখন আমাদের সামনে ছিল হাজার হাজার মানুষ। আমাদের মতো আরো যারা ছিলেন সাথে সন্তান নিয়ে, তাদের জন্য দেওয়াল পেরোনো খুব কঠিন ছিল, সঠিক নথি সাথে থাকা সত্ত্বেও। ইটালিয়ানরা আমাদের সহায়তা করে। আমরা দেওয়ালের কাছে গিয়ে পৌঁছালে, তারা কাঁটাতার কেটে আমাদের ভেতরে ঢোকায়। তারপরের অংশের যাত্রা সহজ ছিল।"

"আফগানিস্তানে যে ইটালিয়ানরা আছে তারা মানুষকে সম্মান দিতে জানে। তারা যখন চলে যায় ও তাদের জায়গায় অন্য সৈন্যরা আসে, তখন সেই একই ব্যাপার ছিল না।" এই অভ্যর্থনার আভাস আবার পায় এই দল রোমে পৌঁছানোর পর।

সার্ডিনিয়ায় 'সাদর অভ্যর্থনা'

"সার্ডিনিয়ায় আমাদের অভ্যর্থনা খুব ভালো হয়", জানান তিনি। সেই পুরুষ আরো বলেন, "আমাদের সাথে শুধু পরনের জামাটুকুই ছিল। তো তারা আমাদের কাছে একটা তালিকা চায়, যে কী কী জামাকাপড় আমাদের প্রয়োজন। সেই তালিকা খুব বড় হওয়ায় আমরা কুণ্ঠা বোধ করছিলাম। কিন্তু তারা কিছু মনে করেনি।" বিশেষভাবে কারিটাস সংস্থার কর্মীদের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সব শেষে তিনি বলেন, "কিন্তু এইসব জিনিসের জন্য নয়। বিশেষভাবে এই মানুষরা আমাদের পাশে থেকে সহায়তা করেছেন। গত কয়েক দিনে যত মানুষের সাথেই আমাদের দেখা হয়েছে, সবার সাথেই আমাদের এমনই অভিজ্ঞতা। এটাই এখন আমাদের দ্বিতীয় ঘর, তাই এখানের সমাজের সাথে মিশে আমরা তাদের একজন হতে চাই।"

(নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো নাম বা ছবি প্রকাশ করা হবে না।)

এসএস/এআই (আনসা)