লিথুয়ানিয়ার একটি শিবিরে অবস্থানরত কয়েকজন অভিবাসী | ছবি: রয়টার্স
লিথুয়ানিয়ার একটি শিবিরে অবস্থানরত কয়েকজন অভিবাসী | ছবি: রয়টার্স

গত জুলাইয়ে লিথুয়ানিয়া এসেছেন এমারাল্ড৷ কঙ্গোর এই নবীন নারী বেলারুশ সীমান্তের মেডিনিনকাই শিবিরে অবস্থান করছেন৷ ইনফোমাইগ্রেন্টসকে তিনি জানিয়েছেন তার দুর্দশার কথা৷

গত জুলাইয়ে অভিবাসীদের আগমন হঠাৎ বেড়ে গেলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে লিথুয়ানিয়া৷ প্রতিবেশি বেলারুশ হয়ে মূলত ইরাকি অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে৷ তাদের সঙ্গে আফ্রিকার অভিবাসীরাও রয়েছেন৷ 

লিথুয়ানিয়ায় প্রবেশে সক্ষম হওয়া অভিবাসীদের বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রাখা হচ্ছে যেখানে জীবন বেশ কঠিন৷ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আওতায় আশ্রয়ের আবেদন করা অভিবাসীদের সাক্ষাৎকারও নিতে শুরু করেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ৷ তবে এই প্রক্রিয়ায় আশ্রয় পাচ্ছেন খুব কম মানুষ৷  

সীমান্ত পুলিশের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে মেডিনিনকাই অভিবাসী শিবিরে এমারাল্ড এসেছেন গত পাঁচ সেপ্টেম্বর৷ ইনফোমাইগ্রেন্টসকে দেয়া তার বক্তব্য:

‘‘কঙ্গোর আরো তিন নারী এবং এক ইরাকি নারীর সঙ্গে এখানে এসেছিলাম আমি৷ এই ক্যাম্পে একেবারে শুরুতে যারা এসেছেন তাদের একজন আমি৷ শিবিরের নারীদের অংশে আছি আমরা, যেটি বেড়া দিয়ে পুরুষদের অংশ থেকে আলাদা করা হয়েছে৷ 

বেলারুশ সীমান্তের কাছে মেডিনিনকাই শিবির
বেলারুশ সীমান্তের কাছে মেডিনিনকাই শিবির


শিবিরটিতে তিনশ’র বেশি নারী অবস্থান করছেন৷ কঙ্গোর আরেক মেয়ে এখানে খাবার বিতরণে সহায়তা করেন৷ তিনিই আমাকে এই তথ্য জানিয়েছেন৷ শিবিরে অনেক শিশুও রয়েছে৷ তারা নারী এবং পুরুষ উভয় অংশেই অবস্থান করছে৷  

শিবিরের একটি কন্টেইনারে আমরা চারজন একসঙ্গে থাকি৷ অন্য কন্টেইনারগুলোর একেকটিতে পনেরজন করেও থাকেন৷ আমরা ম্যাট্রেসের উপর ঘুমাই৷ আমাদেরকে কম্বল দেয়া হয়েছে আর হিটারও রয়েছে৷ সব কন্টেইনারেই এগুলো রয়েছে৷  

তবে টয়লেটের অবস্থা ভালো নয়৷ সেগুলো মাঝেমাঝেই আটকে যায় এবং প্রায়শই নোংরা থাকে৷ 

যখন আমাদের মাসিক হয়, তখন তারা এক প্যাকেট স্যানিটারি টাওয়েল দিয়ে যায়৷ সেটা আমরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেই৷  

আমরা আমাদের কাপড় পরিষ্কার করতে পারি৷ শিবিরের নারী অংশে তিনটি ওয়াশিং মেশিন রয়েছে৷ 

শিবিরে একজন পুরুষ খাবার বিক্রি করতে আসেন৷ প্রত্যেকে তার কাছ থেকে কিছু না কিছু কেনেন৷ তবে সেগুলোর অনেক দাম৷ আমার কাছে কোনো টাকা নেই৷ তাই আমাকে শিবির থেকে দেয়া খাবারই খেতে হয়৷ কিন্তু সেই খাবার পচা থাকে এবং আমাকে অসুস্থ করে ফেলে৷ আমরা যদি পুলিশের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলি তখন তারা বলে যে এটা তাদের সমস্যা নয়৷

কন্টেইনারে থাকেন অভিবাসীরা | ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস
কন্টেইনারে থাকেন অভিবাসীরা | ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস


শুধু ইরিত্রিয়ার দুই নারী আশ্রয় পেয়েছেন

আমার পেটব্যাথা হওয়ায় একদিন ঔষধ চেয়েছিলাম৷ আমি রেড ক্রসের এক নারীর কাছে যাই৷ তিনি জানান যে, একটি তালিকায় আমার নাম লিখতে হবে৷ আমি সেটা করেছি, কিন্তু পরে একজন এসে শুধু ইরাকি নারীকে ঔষধ দিয়ে গেছেন৷ আমরা কালো মেয়ে৷ আমরা যখন কথা বলি তখন তারা আমাদের দিকে এমনভাবে তাকায় যে মনে হয় আমরা নির্বোধ৷ আমরা যখন আমাদের ব্যথার কথা বলি তখন তারা আমাদের বিশ্বাস করে না৷ এমনকি তারা আমাদের দিকে তাকায়ও না৷

প্রতিদিন পুলিশ আমাদের গুনতে আসে৷ আমরা তাদের অনুরোধ করেছিলাম যে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা যাতে রুমে না ঢোকে, বিশেষ করে যখন মেয়েরা ঘুমায়৷ নারী পুলিশ সদস্য থাকলে ভালো হতো৷ 

এখানে ইতোমধ্যে ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে৷ আমাদের পর্যাপ্ত কাপড় নেই৷ আমার কোনো শীতের পোশাক নেই৷ এমনকি আমার জুতাও নেই৷ আমি স্লিপার পড়ি আর আমার পা বরফের মতো শীতল হয়ে যায়৷ আমি তাদের কাছে জুতা চেয়েছি৷ তারা বলেছে আমাকে সেটা দেয়া হবে৷ তারা যখন কাপড় নিয়ে আসে, তখন সেগুলো আমাদের দিকে ছুঁড়ে মারে৷ আমাদের তখন ঠেলাঠেলি করে সেগুলো নিতে হয়৷ 

আমাদের এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই৷ শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া দরকার, কিন্তু তাদের সবসময় আটকে রাখা হয়৷ এখন পর্যন্ত শুধু দু’জন ইরিত্রিয়ার নারীর আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে৷ আমাদের কী হবে তা এখনো জানানো হয়নি৷’’ 

* নাম পরিবর্তন করা হয়েছে 

এআই/কেএম