(ফাইল ছবি) ত্রিপোলিতে অভিবাসীদের দীর্ঘ লাইন। ছবিঃ রয়টার্স
(ফাইল ছবি) ত্রিপোলিতে অভিবাসীদের দীর্ঘ লাইন। ছবিঃ রয়টার্স

অভিবাসনপ্রত্যাশী ‘আসান’ কে লিবিয়ার উপকূলরক্ষীরা সমুদ্রে থেকে আটক করে লিবিয়ায় দেরত নিয়ে আসেন। জউইয়া বন্দরে পৌঁছে তাকে এই অঞ্চলের একটি গোপন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি মিলিশিয়াদের হাতে সহিংসতার শিকার হন। পড়ুন ইনফোমাইগ্রেন্টসের বিশেষ সাক্ষাৎকার।

"মে মাসের শুরুতে, আমি প্রায় শতাধিক লোকের সাথে লিবিয়া উপকূল থেকে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলাম। লিবিয়ার উপকূলরক্ষীরা অন্য অনেকের সাথে আমাকেও সমুদ্র থেকে আটক করে জউইয়া বন্দরে ফেরত পাঠায়। বন্দর থেকে অন্য যাত্রীদের সাথে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি বাড়ির বেসমেন্টে, যেটি ছিল একটি গোপন কারাগার। এটি মূলত স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য বা মিলিশিয়াদের দ্বারা পরিচালিত হয়।”

“সেখানে আগে থেকেই ৩০০জনকে আটক করা হয়েছিল। নতুন করে আমরাসহ মোট প্রায় ৪০০ অভিবাসী বেসমেন্টে আটকে পড়েছিলাম। আমাদের মধ্যে এমন অনেকে ছিল যে শুয়ে ঘুমাতে পারিনি। সারা রাত বসেই কাটিয়ে দেয়া লাগত।”

“আটক কেন্দ্রে আমাদের জন্য তেমন কোনো খাবারের ব্যবস্থা ছিল না। আমাদেরকে সকালে শুধুমাত্র এক টুকরো রুটি ও এক টুকরো পনির এবং সন্ধ্যায়ও একই ধরণের খাবার দেওয়া হয়েছিল।”

“আমি সেখানে দুই সপ্তাহ কাটিয়েছি, আমি আর নিতে পারিনি। এক দিন, আমি অন্য অভিবাসীদের সাথে পালানোর চেষ্টা করি। আমাদের দেখা মাত্র একজন গার্ড গুলি চালায়। গুলিতে ছয়জন মারা গিয়েছিল এবং ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে গিয়েছিলাম। যদিও আমি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম।” 

জোরপূর্বক শ্রম

“এই ঘটনার পর লিবিয়ানরা আমাদের কারাগার পরিবর্তন করে। এই সময়, আমরা জউইয়ার কাছে মরুভূমিতে একটি পরিত্যক্ত কসাইখানায় ছিলাম। কখনও কখনও আমাদের সাথে অভিবাসীদের ভিন্ন ভিন্ন দল যোগ দিত। একই সময়ে এই গোপন কারাগারে ৫০০জন পর্যন্ত লোক জড়ো করা হয়েছিল, যেখানে শিশু এবং নারীরা প্রায় প্রতিদিন নির্যাতিত হয়েছিল।”

“রোজ সকালে আটক কেন্দ্রের রক্ষীরা তাদের অস্ত্র দিয়ে আমাদের বেদম মারধর করত। তারা আমাদের কাজ করতে বাধ্য করেছিল। আমাদের দিয়ে জোর করে জেলের প্রাচীর তৈরি করানো হয়েছিল। মিলিশিয়ারা আমাদের বলেছিল তাদের হয়ে লড়তে। বলেছিল যে তারা আমাদের অস্ত্র দেবে। যদিও আমাকে কখনই বন্দুক সামলাতে হয়নি।”

“যেহেতু আমি আহত হয়েছিলাম তাই আমি আর কাজে ছিলাম না, তাই রক্ষীরা আমাকে টাকার বিনিময়ে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছিল। আমার এক বন্ধু আমাকে মুক্ত করতে অর্থ দিতে রাজী হয়েছিল। কিন্তু অনেক মানুষ এখনো এই কারাগারে বন্দী, তারা এখনো শোষিত।”

“মুক্তি পেয়ে, আমি ত্রিপলিতে ফিরে আসি কারণ সেখানে আমার বন্ধুরা থাকে। ত্রিপলিতে আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম. তারপর থেকে আমি একটু ভালোভাবে হাঁটছি ।কিন্তু লিবিয়াতে আমি দিন দিন স্থবির হয়ে যাচ্ছি। আমি এখানে নিজের কোনো ভাল যত্ন নিতে পারছি না।"


এমএইউ/এসএস