মরোক্কো থেকে গ্রেপ্তার করা অভিবাসীদের আলজেরিয়ার নিকট মরুভূমিতে রীখে আসা হয়। ছবি: ডিআর
মরোক্কো থেকে গ্রেপ্তার করা অভিবাসীদের আলজেরিয়ার নিকট মরুভূমিতে রীখে আসা হয়। ছবি: ডিআর

২০২০ সালের নভেম্বর থেকে দক্ষিণ মরক্কোর লাইওনে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সি আইভোরি কোস্ট থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশী লামিন। এই অভিবাসী ইনফোমাইগ্রেন্টসকে জানিয়েছে, দক্ষিণ মরোক্কো থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ অভিমুখে যাত্রা করতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে পাশ্ববর্তী দেশগুলোর মরুভূমিতে রেখে আসার অভিযোগ রয়েছে মরোক্কোর বিরুদ্ধে।

মরোক্কো থেকে স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জে দিকে প্রস্থানের জন্য পরিচিত দেশটির দক্ষিণের শহর লাইউন। এই শহরে অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করতে ইনফোমাইগ্রেন্টসের সাথে যোগাযোগ করেন আইভরি কোস্ট থেকে আসা অভিবাসন প্রত্যাশী লামিন*।

দীর্ঘ কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পরে স্পেন এবং মরক্কোর মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। মাদ্রিদ এবং রাবাতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালুর পর থেকে অভিবাসীদের আটলান্টিকের পারাপার প্রতিরোধে চলা গ্রেপ্তার অভিযান বহুগুণ বাড়িয়েছে মরোক্কো সরকার। দুই দেশ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাদের যৌথ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে এবং রাবাত আশ্বাস দিয়েছে তাদের অংশ থেকে যাত্রা করা অভিবাসী নৌকাগুলিকে বিরত রাখতে সম্ভাব্য সবকিছু করা হবে।  

সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে আটক করে প্রতিবেশী দেশগুলোর মরুভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অভিবাসীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে। 

লামিন জানান, “লাইওন দুঃখের শহর। আমরা এখানে শান্তিতে বাস করি না, পুলিশ প্রতিনিয়ত আমাদের হয়রানি করে। গত এক মাস ধরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সাব-সাহারান আফিকা থেকে আসা অভিবাসীরা বসবাসরত বাড়িগুলোতে প্রতিদিন পুলিশ আসে। আমরা শান্তিতে নেই।”

প্রতিদিন গ্রেপ্তার ৪০ থেকে ৯০ জন অভিবাসী 

লামিন ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, “পুলিশ হিংস্রভাবে আসে এবং আমাদের বাসাগুলোর মূল দরজা ভেঙে দেয়। মাঝে মাঝে ওনেক পুলিশ আমাদের আঘাত করে যাদের হাত থেকে নারীরাও রেহাই পায় না। এসব গ্রেপ্তার অভিযানের সময় আমার বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।”

তিনি যোগ করেন, “গ্রেফতার এড়াতে আমি দিনের বেলায় বাসায় থাকি না। গত বছর আমার একই অভিজ্ঞতা হয়েছি এবং আমি এটা আবার ঘটতে দিতে চাই না, আমার অনেক বন্ধুরাও একই কাজ করে। আমরা খুব ভোরে আমাদের বাড়ি থেকে বের হই এবং একদম সন্ধ্যায় ফিরে আসি যাতে লাইওন থেকে আমাকে বহিষ্কার হতে না হয়।”

স্পেন মরোক্কো সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া। ছবি: সলিডারি হুইলস
স্পেন মরোক্কো সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া। ছবি: সলিডারি হুইলস


তিনি বলেন, “কিন্তু এই মুহূর্তে বিপদ সর্বত্র। পুলিশ অভিবাসীদের আনাগোনা থাকা এলাগুলোতেও ঘন ঘন আশেপাশের টহল দেয়া শুরু করেছে। এমনকি অভিবাসীদের পেলে রাস্তায়ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৯০ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”

“যখন তারা কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীদের আটক করে নিয়ে যায়, তখন তারা তাদেরকে লাইওনব থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একতি আটক কেন্দ্রে রাখে। এটি বেশ কয়েকটি বড় কক্ষ নিয়ে গঠিত একটি বড় আটক কেন্দ্র। এক ঘরে প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে রাখা হয়। যেখানে কোন বিছানা, তোষক এবং পানি নেই। আমরা হাত-মুখ পর্যন্ত ধুতে পারি না এবং আটক কেন্দ্রের উঠোনে মলত্যাগ করতে হয়”, বলেন লামিন/রামিন*। 

আটককেন্দ্রের রক্ষীরা আমাদের প্রতিদিন এক টুকরো রুটি এবং সার্ডিন মাছ দিয়ে পাস্তা খেতে দেয়। আটকের পর অভিবাসীদের এসব কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ছয় দিন পর্যন্ত রাখা হয়।

উল্লেখ্য মরোক্কোর দক্ষিণ থেকে আফ্রিকান অভিবাসীরা ছাড়াও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা অভিবাসীরাও নিয়মিত ভিড় করেন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছতে। ২০২১ সালের শেষ দিকে জামাল ছদ্মনামের এমনই এক বাংলাদেশি অভিবাসীর সাথে কথা বলেছিল ইনফোমাইগ্রেন্টস বাংলা। যিনি বহুবার আটক ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌছেছিলেন। 


*সাক্ষাৎকার দেওয়া অভিবাসীর অনুরোধে নাম পরিবর্তন করে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। 


এমএইউ/আরআর