নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে আগদেজ অঞ্চলে আইওএম পরিচালিত ট্রানজিট সেন্টারে অবস্থানরত মালিয়ান অভিবাসীদের প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে অভিবাসী ইব্রাহিমাকে। ছবি: আওএম
নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে আগদেজ অঞ্চলে আইওএম পরিচালিত ট্রানজিট সেন্টারে অবস্থানরত মালিয়ান অভিবাসীদের প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে অভিবাসী ইব্রাহিমাকে। ছবি: আওএম

মালির নাগরিক অভিবাসী ইব্রাহিমাকে সাহারা মরুভূমির কেন্দ্রস্থল নাইজারের শহর আগাদেজেতে অবস্থিত একটি ট্রানজিট কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। অভিবাসী বিষয়ক এই ট্রানজিট কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে আছে আন্তজার্তিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

নাইজারের সাহারা মরুভূমির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আগাদেজ শহর। এই শহরেই রয়েছে আন্তজার্তিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত একটি ট্রানজিট সেন্টার।

লিবিয়া ও নাইজারসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত যেতে চাওয়া অভিবাসীদের জন্য এই কেন্দ্রটি স্থাপন করেছে আইওএম। অভিবাসীদের জাতিসংঘের বিশেষ প্রোগ্রামের আওতায় স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনের সুযোগ প্রদান করা হয়। 

আরও পড়ুন>>ইউরোপে অভিবাসীদের জোর করে ‘পতিতাবৃত্তি’, চক্রের নেতা গ্রেপ্তার

এই কেন্দ্রে থাকা প্রায় তিনশ জন মালিয়ান অভিবাসীর জন্য ইব্রাহিমাকে প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। অথচ ২০০৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম মালি ছেড়ে চলে নিজেই অভিবাসী হয়ে এসেছিলেন। 

বার্তা সংস্থা আনসাকে ইব্রাহিমা বলেন, “আমি মালিতে আমার গ্রামে খাবার পানি বিক্রি করতাম। একদিন আমার কাছে যথেষ্ট অর্থ হলে আমি সমুদ্রপথে স্পেনে পৌঁছানোর আশায় মরক্কো যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”

“সে সময় নৌকায় স্পেনে যাত্রা একটি বিপর্যয় ছিল। অনেকেই সমুদ্রে মারা গিয়েছিল। অবশেষে আমাদের আবারো স্পেন সীমান্ত থেকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

পড়ুন>>জাহাজের রাডারে লুকিয়ে নাইজেরিয়া থেকে ক্যানারিতে, উদ্ধার ৩

ইব্রাহিমা এই পথে ব্যর্থ হয়ে আলজেরিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার জন্য আবার চেষ্টা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

তিনি জানান, “আমি পুরো পথ হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি আলজেরিয়ার সীমান্তে আটকা পড়ি।”

টার্নিং পয়েন্ট: আইওএম ট্রানজিট কেন্দ্র

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কোন উপায় ছাড়াই নাইজারের আগাদেজ অঞ্চলের আসামাকায় অবস্থিত আইওএম-এর ট্রানজিট কেন্দ্রে যাওয়ার পথ খুঁজে পান ইব্রাহিমা। 

আরও পড়ুন>>মানবপাচারের বিরুদ্ধে লড়াই, নতুন চুক্তি স্বাক্ষর ইইউ- নাইজারের

অবশেষে বেশ কয়েকদিনের যাত্রার পরে আগাদেজ কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে তাকে আরলিটে অবস্থিত আইওএম-এর ট্রানজিট কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখান থেকে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে আগাদেজ কেন্দ্রে আসেন ইব্রাহিমা। 

এই কেন্দ্রে অভিবাসীদের আশ্রয়, খাদ্য, পানি, চিকিৎসাসেবা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। একই জায়গায় এক হাজারেরও বেশি লোক থাকার কারণে অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ইব্রাহিমা বলেন, “সবকিছুর পরও, ছোটখাটো তর্ক কখনো সখনো মৌখিক বা শারীরিক দ্বন্দ্বের দিকে নিয়ে যায়। শান্ত থাকা দরকার, যাতে আমরা নিজেদের শত্রু হয়ে না যাই।”

পড়ুন>>বছরের প্রথম সপ্তাহে দেড় হাজারের বেশি অভিবাসীকে লিবিয়ায় ফেরত

আইওএম এর কেন্দ্রে যোগাযোগের জন্য প্রত্যেক দেশের জন্য একজন প্রতিনিধি রাখার একটি নিয়ম চালু করা হয়েছে। প্রতিটি সম্প্রদায় বা দেশ থেকে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। যার দায়িত্ব হলো কেন্দ্রের শান্তি বজায় রাখতে অভিবাসীদের মধ্যে সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

ইব্রাহিমা বলেন, “আমার স্বদেশিরা আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং আমি সম্মানের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করেছি।”

তিনি বলেন, “তাদের অধিকাংশই পড়তে বা লিখতে পারে না। বেশিরভাগই ফরাসি বা ইংরেজি বলতে পারে না। তারা শুধুমাত্র তাদের মাতৃভাষায় কথা বলে। আমরা আইওএম কর্মীদের দেয়া বার্তা অভিবাসীদের বুঝতে সাহায্য করি।”

অভিবাসীদের তাদের মূল দেশে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের সুবিধা পেতে প্রতিনিধিরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত সকল তথ্য সরবরাহ করেন। পাশাপাশি তারা অভিবাসীদের জন্য থাকা বিভিন্ন উদ্যোগ ও বিনোদনমূলক কার্যকলাপ বাস্তবায়ন করেন। 

পড়ুন>>অভিবাসী উদ্ধারকারী জাহাজের জন্য ইটালিতে নতুন আইন

ইব্রাহিমা জানান, এই দায়িত্ব তার অভিবাসন যাত্রার একটি দারুণ স্মৃতি এবং এ নিয়ে তিনি গর্বিত।  

তিনি আশা করেন, তার এই কাজ ভবিষ্যতে নিয়োগ পাওয়া প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বেঁচে থাকবে।

মালিতে থাকা তার পরিবার এবং সন্তানদের কাছে ফিরে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে অপেক্ষায় রয়েছেন ইব্রাহিমা। 

তিনি বলেন, “আমি মনে করি আমি ট্রানজিট সেন্টারে মূল্যবান অবদান রেখেছি। আমি আমার বন্ধুদের এবং প্রতিনিধিদের বলেছি জীবন একটি অধ্যবসায়। এটি চালিয়ে যেতে। এটি একটি বড় দায়িত্ব, কিন্তু এটি ফলপ্রসূ।”


এমএইউ/আরআর/আরকেসি         (আনসা)